ব্রেকিং:
Home » শীর্ষ সংবাদ » ফেলানী হত্যা : ভারতের উচ্চ আদালতই এখন শেষ ভরসা

ফেলানী হত্যা : ভারতের উচ্চ আদালতই এখন শেষ ভরসা

নিউজ ডেস্ক : আজ ৭ই জানুয়ারি ফেলানী হত্যার ৬ বছর পূর্ণ হলো। ২০১১ সালের এই দিনে ভারত থেকে কাঁটাতার ডিঙিয়ে বাবার সঙ্গে বিয়ের জন্য বাংলাদেশে আসার পথে বিএসএফ’র গুলিতে প্রাণ হারায় সে। আত্মস্বীকৃত খুনি বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দু’দুবার নির্দোষ সাব্যস্ত করেন বিএসএফ’র বিশেষ আদালত। মামলাটি বিএসএফ’র বিশেষ আদালত গড়িয়ে এখন ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে।

ন্যায়বিচার না হওয়ায় ফেলানীর পিতা নুরুল ইসলাম ভারতের মানবাধিকার সংস্থা মাসুমের সহায়তায় সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট করায় মামলাটি বর্তমানে ভারতের উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আর এ উচ্চ আদালতের ন্যায়বিচারের আশায় চেয়ে আছে ফেলানীর পরিবারসহ দেশবাসী। ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় নির্মমভাবে খুন হয় কিশোরী ফেলানী। ভারতের ১৮১  ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষের গুলিতে নিহত ফেলানীর মরদেহ কাঁটাতারেই ঝুলে থাকে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা।

ফেলানীর ঝুলে থাকা লাশের ছবি দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাঝে


সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে বিজিবির দাবির মুখে ২০১৩ সালের ১৩ই আগস্ট ভারতের কোচবিহারে বিএসএফ’র বিশেষ আদালতের সোনালী ছাউনিতে ফেলানী হত্যার বিচার কাজ শুরু হয়। ঐ বছর ৬ই সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেন ঐ আদালত। আবারো সমালোচনার ঝড় উঠলে পরবর্তীতে বিজিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ২০১৪ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর মামলার পুনর্বিচার কার্যক্রম শুরু করে বিএসএফ’র বিশেষ আদালত। আবারও অমিয় ঘোষকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে পূর্বের রায় বহাল রাখে বিএসএফ’র আধিকারী সিপি ত্রিবেদীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

ফেলানীর পিতা নুরুল ইসলাম জানান, বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে কন্যা হত্যার ন্যায়বিচার না পেয়ে ২০১৫ সালের ৪ঠা আগস্ট ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মাসুম’র (মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ) সহায়তায় ভারতের উচ্চ আদালতে রিট করেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রিটটি গ্রহণ করে শুনানির জন্য সম্মত হয়। ফলে ফেলানী হত্যার ন্যায়বিচার এখন সর্বোচ্চ আদালতের ওপর। তিনি বলেন, আমি এখনও আশাবাদী ভারতের উচ্চ আদালতে আমার কন্যা হত্যার ন্যায়বিচার পাবো।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট এস.এম আব্রাহাম লিংকন জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রিটটি গ্রহণ করায় এবার ন্যায়বিচারের আশা করছেন তিনি। ইতিপূর্বে বিএসএফ’র বিশেষ আদালতে দু’দুবার অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেহেতু ঐ আদালতের বিচারক, বিচারপ্রার্থী, আসামি এবং বিচারকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই বিএসএফ’র সদস্য। ফলে সেখানে ন্যায়বিচার প্রাপ্তি দুরূহ ছিল।

মামলাটি ভিন্ন রাষ্ট্রের হওয়ায় এ মামলার আপিলের সুযোগ আমাদের নেই। আপিল করতে হলে বিএসএফকেই করতে হবে। তারা মামলাটির ন্যায়বিচারের স্বার্থে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ না হওয়ায় ফেলানীর বাবা ও ভারতের একটি মানবাধিকার সংগঠন যৌথভাবে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। আমরা আশা করি ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। এ মামলায় ভারতের উচ্চ আদালতে ইতিবাচক রায় হলে সীমান্তে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হবে এমনটাই আশা বাংলাদেশের মানুষের। এমজমিন

 

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close