Home » খেলা » ‘শ্লীলতাহানি’র শিকার এই মেয়েটির জন্য যা করলেন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, তা নজিরবিহীন

‘শ্লীলতাহানি’র শিকার এই মেয়েটির জন্য যা করলেন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, তা নজিরবিহীন

এক্সক্লুসিভ ডেস্ক : ইউসুফ পাঠান ও মুসকান। ইউসুফ পাঠানের ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটি নেওয়া হয়েছে। মাঠে নেমে তাঁর নির্দয় ব্যাটিং দেখতে সবারই ভাল লাগে। বিপক্ষের বোলারকে অবলীলায় তুলে ফেলে দিচ্ছেন গ্যালারিতে। এই ছবি দেখতে অভ্যস্ত ক্রিকেট পাগলরা।

কিন্তু তাঁর অন্য এক ছবি অনেকেই দেখেননি। সেই ছবিতেই স্পষ্ট বাইশ গজের মারমুখী, ভয়ঙ্কর ইউসুফ পাঠানের ভিতরে রয়েছে একটা কোমল, নরম মন। মানুষের কষ্ট দেখলে যিনি নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেন না। সোমবার ফেসবুকে নিজের হোম পেজে একটি কিশোরীর সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন পাঠান। সেই ছবির নীচে ইউসুফ লিখেছেন, এই মেয়েটা ৯৯.৯৩ শতাংশ পেয়েছে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায়।

এত পর্যন্ত পড়ে অনেকেই বলবেন, এ আর এমন কী কথা! এখনকার সময়ে প্রতিযোগিতা আর প্রতিযোগিতা। আকাশছোঁয়া নম্বর পেয়েও অনেকে স্কুল-কলেজে ভর্তি হতে পারেন না। উচ্চশিক্ষার দ্বার হয়ে যায় বন্ধ। কিন্তু ইউসুফের সঙ্গে ছবিতে যে ফুটফুটে মেয়েটি রয়েছে, তার জীবনের গল্প প্রেরণা জাগায়। নতুন করে বাঁচার ইচ্ছা বাড়িয়ে দেয়। মনের জোর ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিবন্ধকতাকেও পরাস্ত করা যায়। মুসকান সেটাই দেখিয়ে দিয়েছে।

এই

ভারতেই রয়েছে দু’টো পৃথিবী। বর্ষবরণের রাত্রে বেঙ্গালুরুর রাস্তায় শ্লীলতাহানির ঘটনায় ‘গেল গেল’ রব উঠেছে। সব মহলের মানুষ তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন এ হেন কুৎসিত কাণ্ডকে। ফেসবুকে নিজের পেজে পাঠান লিখেছেন, ‘এক দিকে মহিলার সম্মান লুন্ঠিত হচ্ছে। আর আমি এই অসম্ভব কৃতি একটি মেয়ের সঙ্গে একই ফ্রেমে।’

পাঠানের সঙ্গে এবেলা.ইন যোগাযোগ করলে কলকাতা নাইটরাইডার্সের বিধ্বংসী এই ব্যাটসম্যান বলেন, ‘অসম্ভব প্রতিভাময়ী মেয়ে মুসকান। রবিবার একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম। তখনই আমি জানতে পারি মেয়েটার কথা।’

পাঠানই গড়গড় করে মুসকানের জীবনের লড়াইটা বলে যাচ্ছিলেন। ‘কয়েক বছর আগে এক বাস দুর্ঘটনায় মেয়েটার ডান হাত কেটে বাদ যায়। কিন্তু ও হাল ছাড়েনি। সেই আঘাত কাটিয়ে উঠে পরীক্ষায় ৯৯.৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। এটা মোটেও মুখের কথা নয়,’ এক নিঃশ্বাসে বলে যাচ্ছিলেন ইরফান পাঠানের বড় ভাই। মুসকানের কাছ থেকেই জীবনের মন্ত্র শিখেছেন ইউসুফ। শুনলে অবাক লাগলেও, তা সত্যি। পাঠান নিজেই বলছেন, ‘আমি সবার কাছ থেকেই কিছু না কিছু শিখি। এই মেয়েটা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়ে গেল। জীবনে ঝড়ঝঞ্ঝা আসবে। কিন্তু ভেঙে পড়লে চলবে না। লড়াই থামালে চলবে না। লড়াইটাই আসল। মেয়েটা আমাকে আরও এক বার শিখিয়ে দিয়ে গেল সৎ ভাবে পরিশ্রম, লড়াই করলে ফল পাওয়া যাবেই।’

খেলার মাঠে ইউসুফ লড়াকু এক যোদ্ধা। দুরূহ টার্গেট হলেও হাল ছেড়ে দেন না। লড়াই চালিয়ে যান তিনি। শেষমেশ দলকে কঠিন লড়াইও জিতিয়ে বীরের মতো মাঠ ছাড়েন। নিজে প্রকৃত ‘ফাইটার’, তাই মুসকানের লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন দীর্ঘ চেহারার এই ক্রিকেটার।

ইউসুফের ফেসবুক পেজেই তাঁর ভাই ইরফান পাঠান বেঙ্গালুরুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ইউসুফ বলছেন, ‘ইরফান ঠিকই বলেছে ওই ভিডিওয়। শুনুন, মহিলাদের উপরে অত্যাচার, তাঁদের সম্ভ্রম নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া কেবল এই দেশেই যে হচ্ছে, তা নয়। গোটা পৃথিবীরই তা সমস্যা। সব মহিলার মধ্যেই রয়েছে মায়ের ছায়া, এটা আমরা ভুলে যাচ্ছি। মহিলাদের শ্রদ্ধা করতে হবে। আজকে যে ছোট্ট মেয়ে, কালই তো সে মা হবে। এটা তো সবারই মনে রাখা উচিত।’

এই ইউসুফ পাঠান মাঠের ভিতরের সেই বিধ্বংসী মানুষ নন। এই পাঠান জীবনের মন্ত্র শেখান।

 

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close