ব্রেকিং:
Home » মতামত » বাংলাদেশে ৯ মাত্রা ভূমিকম্প হলে ঢাকা হয়ে যাবে বিশাল নদী, ময়মনসিংহ হবে হিমালয়!

বাংলাদেশে ৯ মাত্রা ভূমিকম্প হলে ঢাকা হয়ে যাবে বিশাল নদী, ময়মনসিংহ হবে হিমালয়!

আনিসুল হক: মনকে যতই বোঝাই, জন্মিলে মরিতে হবে, অমর সে কোথা কবে, মন তবু বোঝে না। মনে হয়, আবার বুঝি শুরু হলো। চেয়ারটা কেন দুলছে। ঝুলন্ত লাইট-ফ্যানের দিকে তাকাই। এই দেখো তো, ভূমিকম্প হচ্ছে কি না।
অথচ মরার জন্য সব সময় যে বড় কারণ লাগে, তা নয়। বাংলাদেশে প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। তবু বাসে, গাড়িতে, ট্রেনে উঠতে কেউ ভয় পায় না। শুধু একটু দুলুনি উঠলে কেন এত ভয় পায়?
আমেরিকায় প্রতিবছর নিজের বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে মারা যায় ৪৫০ জন।
দুটো খবর পড়ুন। বাংলাদেশে মৃত্যুর।
গলায় কই মাছ আটকে তরুণের মৃত্যু
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | ডিসেম্বর ২, ২০১৩ |
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নে গতকাল রোববার গলায় কই মাছ আটকে নূর মোহাম্মদ (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।

নূর মোহাম্মদের বাড়ি ছদাহা ইউনিয়নের ফজুরপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে নূর মোহাম্মদ নিজ বাড়ির পাশের পুকুরে মাছ ধরতে নামেন। একটি কই মাছ ধরার পর তিনি সেটি মুখে চেপে ধরে আবারও জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় মুখে থাকা মাছটি গলার ভেতর ঢুকে আটকে যায়। স্বজনেরা দ্রুত নূর মোহাম্মদকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেলফি তুলতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি | মার্চ ২১, ২০১৬।

চলন্ত ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলে রেললাইন পার হতে গিয়ে কাটা পড়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর নাম সায়েদ আহমদ (১৮)। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর

স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সায়েদের বাড়ি মৌলভীবাজার বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে। তাঁর বাবার নাম মানিক মিয়া।
শমশেরনগর রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবদুল আজিজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনকে শমশেরনগর স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে দাঁড় করিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনকে পার (ক্রসিং) করা হচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় পাহাড়িকা থেকে সায়েদ নেমে ১ নম্বর লাইন অতিক্রম করে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে দ্রুতগামী পারাবত ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলছিলেন। পারাবত ট্রেনটি দ্রুত এগিয়ে আসার সময় তরুণটি দৌড়ে ১ নম্বর লাইন অতিক্রম করে ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ানো পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে যান। এ সময় চলন্ত পারাবত ট্রেনের ইঞ্জিনের কিনারার লোহার পাতের আঘাতে সায়েদ আহমদ মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালি কেটে যায় ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁকে দ্রুত কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান।
জ্যান্ত কই মাছ গলায় বিঁধে প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশে মানুষ মারা যায়। কানে ফোন দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় অনেক লোক মারা পড়েছেন। এমনকি মারা গেছেন রেললাইন পেরোতে গিয়েও। বাংলাদেশে অপমৃত্যুর বড় একটা কারণ সাপের দংশন। ১৯৮৮-৮৯ সালে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৫০টি উপজেলায় এক বছরে ১৬৮ জন সাপের দংশনে মারা যায়।
তারপরও কেন যে আমরা এত ভূমিকম্পে ভয় পাই! তার ওপর কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালেয়র গবেষক দল আবিষ্কার করেছেন, বাংলাদেশের পলিমাটির নিচে রয়েছে বিশাল ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আসন্ন।
৯ মাত্রার! ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে বাংলাদেশের মাটিও থাকবে না। ঢাকা হয়তো হয়ে যাবে বিশাল নদী, ময়মনসিংহ হবে হিমালয়।
তবে গত ১০০ বছরের পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশ অঞ্চলে ভূমিকম্পে ভবনধসে খুব কমজনই মারা গেছে। আমাদের মৃত্যু ঘটে দালান থেকে লাফিয়ে পড়ে, সিঁড়িতে পায়ের নিচে পড়ে, আর হৃদ্রোগে। এই দেশে ভূমিকম্পে ভবনধসে যতজন মারা গেছে, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক মারা গেছে সেলফি তুলতে গিয়ে, কিংবা গলায় কই মাছ আটকে গিয়ে।
কাজেই ভূমিকম্প হলে দৌড়াদৌড়ি না করাই উত্তম।
কিন্তু কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল যে আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ মহা ফাটলের ওপরে বসবাস করছে!
তাই তো।
ওরা এটা আবিষ্কার করতে গেল কেন?
আচ্ছা। ১৭৭২ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল উইলহেম শিলি অক্সিজেন আবিষ্কার করেন।
অক্সিজেন আবিষ্কারের আগে মানুষ বাঁচত কীভাবে?
অক্সিজেন আবিষ্কারের আগে যদি মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আবিষ্কারের পরেও আমরা বেঁচে থাকতে পারি।
ওই ফাটল নিশ্চয়ই হাইকোর্ট আর কার্জন হল বানানোর আগেই তৈরি হয়েই ছিল। তারপরেও ওই ভবন দুটো যদি এত বছর টিকতে পারে, আর কটা বছর কি ভূমিকম্প ওয়েট করতে পারে না?
এই রে। আবার দুলছে নাকি। কোথায় লুকোব? সিঁড়িঘরে, নাকি টেবিলের নিচে?
কী! টের পাননি! তার মানে আপনি অহংকারী। আমাদের সিমু নাসের একটা কৌতুক বানিয়েছেন! অহংকারীরা ভূমিকম্প টের পায় সবার পরে। কারণ অহংকারীর পা মাটিতে পড়ে না।
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

 

Facebook Comments
(Visited 1 times, 1 visits today)

মন্তব্য

আপনার ইমেইল গোপন থাকবে - আপনার নাম এবং ইমেইল দিয়ে মন্তব্য করুন, মন্তব্যের জন্য ওয়েবসাইট আবশ্যক নয়

*

Open

Close