দাজ্জাল ও ইমাম মাহাদী

0 1

প্রিয় ভিউয়ার্স ইসলামিক সম্ভাষণে আপনাদেরকে সম্মানিত করে বলছি আসসালামুয়ালিকুম আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভাল আছেন। আজ এই এপিসোডে আলোচনা করবো ভাইরাস ইমাম মাহাদী গ্রহাণু আসা ও কাবা ঘর তাওয়াফ বন্ধরে সাথে কি সম্পর্ক ? আসলেই কি কোন সম্পর্ক আছে ? নাকি আমরা একটির সাথে আরেকটির সম্পর্ক জুড়ে একটি ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে ? সম্পূর্ণ তথ্যটি জানার পর আপনি একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন আশা করি। দেরি না করে শুরু করা যাক।

বিশ্বজুড়ে এই মহুত্বে চলছে ভাইরাসের তাণ্ডব। ন্যানো মিটারের একটি অণুজীবের সাথে লড়াইয়ে যখন সারা পৃথিবীর মানুষ খাবি খাচ্ছে তখন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে পৃথিবীর নিকট ধেয়ে আসছে বিপজ্জনক এক গ্রহাণু। আগামী ২৯ এপ্রিল রমযানে প্রথম সপ্তাহে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ থেকে প্রবাহিত হয়ে যাবে একটি শক্তিশালী গ্রহাণুর। নাসার পক্ষ থেকে এ গ্রহাণুটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘Asteroid 52768’.

ইমাম মাহাদী (আ:) প্রকাশ হবে রমযান মাসে জিব্রাইল (আ:)কোন এক রমযানে আকাশ থেকে আওয়াজ করে বলবেন ইমাম মাহাদী (আ:) এসে গেছেন, ওই বছর রমজানে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তাতে বুঝা যায় এই গ্রহাণু অতিক্রম এর সাথে ইমাম মাহাদী প্রকাশিত হবে তার কোন ধরণের সম্পর্ক নেই।

যদিও এ গ্রহাণুটি সরাসরি পৃথিবীর ওপর কোনও ধরনের আঘাত হানার শঙ্কা নেই বিজ্ঞানীরা বলেছেন পৃথিবীতে এর আঘাত হানার সম্ভবনা ৫০০০০ পঞ্চাশ হাজার ভাগের এক ভাগ । যদিও পৃথিবীর কক্ষপথের থেকে ৩.৯ লক্ষ মাইলের অভ্যন্তরে এ গ্রহাণুটি আসবে না কিন্তু এ গ্রহাণুটির বিশাল আকৃতির জন্য কিছুটা হলেও শঙ্কা থেকে যায় যে কোন সময় এর গতি পথ পরিবর্তন হতে পারে । পৃথিবীর পাশ ঘেঁষে চলে গেলেও এর প্রভাব পড়তে পারে পৃথিবীতে এর আলোক ছোটাও দেখা যেতে পারে।

আনুমানিক ১.১ থেকে ২.৫ মাইল ব্যাস বিশিষ্ট এ গ্রহাণুটি ঘণ্টায় বিশ হাজার মাইল বেগে পৃথিবীর কক্ষপথের কাছ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যাবে, যার প্রভাবে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসতে পারে বলে কোনও কোনও বিজ্ঞানী মনে করছেন। একই সঙ্গে পৃথিবীর কিছু জায়গা সাময়িক সময়ের জন্য সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। যদিও নাসার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কোনও কিছু বলা হয়নি।

তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নেই পৃথিবী এটি আঘাত হানলেও মানব জাতী সম্পূর্ণ ধ্বংস হবে না , ধরুন এটি আমেরিকায় আঘাত হানলো তাতে আমেরিকা মহাদেশ তলিয়ে যাবে বা ধ্বংস হবে। অন্যদের উপর এর প্রভাব পড়বে কিন্তু ধ্বংস হবে না।

তবে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে মহানবী (সঃ ) বলেছেন পচ্ছিমআর্ধে বিশাল এলাকা জুড়ে ভূমিধস হবে তা তলিয়ে যাবে। পৃথিবীর পচ্ছিমে অবস্থান হল আমেরিকা। তাই ধারণা করা হচ্ছে ইমাম মাহাদী এর বিরোধিতা করলে আমেরিকা তলানি খাবে তা আল্লাহ ভাল জানেন।কারণ হাদিসে উল্লেখ আছে ইমাম মাহদীকে যারাই হত্যা করতে আসবে তারাই মাটিতে তলানি খাবে। এমনকি মুসলিমদের মধ্যে পারস্য তথা ইরান ও সিরিয়া থেকে একটি বিশাল বাহিনী তাকে হত্যা করতে আসবে বায়দা নামক স্থানে তারাও ভূমি ধসে তলানি খাবে।

সর্বপোরি ইমাম মাহাদী (আ ) কখন আসবেন এক মাত্র আল্লাহ ভাল জানেন।ইসলামী ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় গত ৫০০ বছর ব্যাপী প্রতি ১০০ বছরের মাথায় ইমাম মাহাদী (আ:) আসার জোড়ালো সম্ভবনা তৈরী হয়। সালের সংখ্যাটাও হয় ২০ থেকে ৩০ সাল।কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি আসেন নি।

ইমাম মাহাদী (আ:) না আসলেও পৃথিবী ব্যাপি অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। এমনকি ক্ষমতায়ন পরিবর্তন দেখা যায়। এবারেও এর বিকল্প নেই ইতিমধ্যে ভাইরাস আক্রমনে অনেক পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মানব সভ্যতা একটি ক্রান্তি কাল সময় পার করবেন। মহামারী,অর্থনৈতিক ক্রাইসিস ও ক্ষুধা অনেক বিপদ আপদের মধ্যে দিয়ে মানুষকে আগামী ১০ বছর অতিক্রম করতে হবে।

এবার আসা যাক কাবা ঘর তওয়াফ বন্ধের সাথে কি ইমাম মাহাদির কোন সম্পর্ক আছে কি ?

কাবা শরীফ বন্ধের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে প্রায় ১০ বার বিভিন্ন সংকটকালীন সময়ে এমনটি করা হয়েছে।ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে ৮৬৫ সালে কাবা শরীফ বন্ধ করার ইতিহাস পাওয়া যায় ।সর্বশেষ ১৯৭৯সালে, যখন জুহাইমান আল-ওতাইবি তার এক শিষ্যকে ইমাম মাহদী দাবি করে কাবা ঘর দখল করে নেয়। সে সময় প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত কাবা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ছিল। কোনো তাওয়াফ অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরিশেষে বলা যায় ইমাম মাহাদী (আ:)অবশ্যই আসবেন কখন আসবেন তা আল্লাহ ভাল জানেন। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে তিনি খুব দ্রুতই আসবেন। কারণ রাসূল (সাঃ ) যখন দাজ্জাল নিয়ে কথা বলতেন সাহাবারা পেরেশান হয়ে যেতেন এবং তাঁরা মনে করতেন দাজ্জাল মনে হয় খেজুর গাছের পিছনেই লুকিয়ে আছেন তখন রাসুল (সাঃ )বললেন দাজ্জাল যদি আমার সময়ে আসে তাহলে আমিই তার জন্য যথেষ্ট তবে রাসুল (সাঃ )বলেন দাজ্জাল নিহিত হবে হজরত ঈসা (আ:)এর হাতে। ইমাম মাহাদী (আ:)এর এর শাসন আমলের ৬ ষষ্ঠ বছের দাজ্জাল নিজেকে ও আত্ম প্রকাশ করবেন।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আবারো কথা হবে পরবর্তী ইপিসোডে। সবাই ভাল থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Leave A Reply