সিনহা হত্যা মামলা:জেনেনিন সঠিক বিচার পাওয়ার একটাই পথ!

0

একই ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার একটিতে যে বাদী, অন্যটিতে সেই আসামি। এমনটি হয়েছে টেকনাফে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায়। টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ আট পুলিশ সদস্যের সহায়তায় সিনহা ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেছিলেন এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত।

এখন তারাই আবার একই থানায় সিনহা হত্যা মামলার আসামি। এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই ঘটনায় মামলার বাদী অন্য মামলার আসামি হলেও বিচারে কোনো বাধা নেই। এমন নজির দেশেই আছে।

এ ক্ষেত্রে দুটি মামলা একত্রে তদন্ত করা যেতে পারে। তবে তদন্তের পর আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন কোন মামলা সত্য আর কোনটি মিথ্যা। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে সবচেয়ে বেশি জরুরি সুষ্ঠু তদন্ত।

কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। এ ঘটনায় পরদিন টেকনাফ থানার এসআই দুলাল রক্ষিত বাদী হয়ে সিনহার সঙ্গী সিফাতসহ দু’জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা ও মাদক আইনে একটি মামলা করেন।

এ মামলায় কারাগারে আছেন সিনহার সহকর্মী সিফাত ও শিপ্রা। কিন্তু ঘটনাটি অন্যদিকে মোড় নেয় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিনহার বড় বোন শারমিনের মামলার পর।

এ মামলায় আসামি হয়েছেন টেকনাফ থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা।

অন্যদিকে এই পুলিশ সদস্যরাই সিনহার বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যাচেষ্টা মামলার বাদী, তদারকি কর্মকর্তা ও সাক্ষী। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশিষ্ট ফৌজদারি মামলা বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় একটি মামলার বাদী অন্য মামলার আসামি হলেও বিচারে কোনো বাধা নেই।

এখন মামলা দুটি একই সঙ্গে তদন্ত হবে। তবে মেজর সিনহার হত্যার ঘটনায় একটি মামলায় পুলিশ বাদী এবং অন্যটিতে পুলিশ আসামি, তাই অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে মামলার তদন্ত করলে কোনো প্রশ্ন উঠবে না। তবে তদন্ত হতে হবে স্বচ্ছ।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, একই ঘটনায় মামলার বাদী অন্য মামলার আসামি হয়েছেন দেশে এমন বহু উদাহরণ আছে। এ ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা। আদালত সেই তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিচারকার্য সম্পাদন করবেন। তবে তদন্তটা হতে হবে নিরপেক্ষ।

সুপ্রিমকোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, একাধিক মামলা হওয়া কোনো অস্বাভাবিক নয় এবং সব মামলাই একই সঙ্গে পরিচালিত হবে। যে মামলাটি সঠিক বলে বিচারকের কাছে প্রতীয়মান হবে সেই মামলাটি পরে বিচারিক কাজের জন্য তিনি আদেশ দেবেন।

বাশার আরও বলেন, যদি মামলা ভিন্ন দিকে যায় তাহলে কোনো ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হয়ে আবেদন করতে পারবেন। আর যদি সেটি না হয় তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারা অনুযায়ী উচ্চ আদালতে মামলা বাতিলের জন্য যেতে পারবেন।

সুপ্রিমকোর্টের আরেক আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, এটা মনের মধ্যে প্রশ্ন তোলাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হয় মামলা দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দেবে কোন মামলাটি চলবে, কোনটি চলবে না।

Leave A Reply