মার্কিন কংগ্রেসের প্রথম হিজাবধারী ইলহান ওমর বিপুল ভোটে জয় পেলেন

0

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী ইলহান ওমর। সোমালিয়া বংশোদ্ভূত ওই মুসলিম নারী খুব সহজেই রিপাবলিকান প্রার্থী লেসি জনসনকে বিপুল সংখ্যক ভোটে হারিয়ে জয়ের তালিকায় নিজের নাম লিখেছেন। ইলহান ওমর দ্বিতীয় মেয়াদে তার নির্বাচনী এলাকা মিনেসোটায় ৬৪ দশমিক ছয় শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

মিনেসোটায় ৯৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। যার মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী লেসি জনসন এক লাখ এক হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। আর সেখানে ইলহান ওমর দুই লাখ ৫২ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দী লেসি জনসনের ভোটের হার মাত্র ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইলহান ওমর এর আগে ২০১৬ সালে মিনেসোটা রাজ্য সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। কে এই ইলহান ওমর: ইলহান ওমর এসেছেন সোমালিয়া থেকে। শিশু বয়সে দীর্ঘ চার বছর কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে ছিলেন সাহসী এই নারী। তাকে সাহসী বলা হচ্ছে এ কারণে যে, হিজাব পরার পক্ষে তর্কযুদ্ধেও তিনি জয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রথম হিজাব পরা সদস্যও তিনি।

অথচ ওখানকার অনেক শাসকই তা না পরার পক্ষে যুক্তি দেখান। তিনি কৌশলে এসব যুক্তি খণ্ডন করেন। কংগ্রেসের একটি সভায় তার হিজাব পরার বিষয়ে অভিযোগকারী এক ধর্মীয় নেতাকে কৌশলে নিশ্চুপ করিয়ে দেন। ইলহান বলেন, আমি এখন একজন কংগ্রেস প্রতিনিধি। ইলহান বলেন, ‘আমার মাথায় কেউ হিজাব পরিয়ে দেয়নি। আমি নিজেই তা পরেছি। এটা আমার ব্যাপার।

তা আমি প্রতিষ্ঠা করার জন্যই কাজ করছি। ২০১৬ সালে ইলহান ওমর লেবার পার্টির ডেমোক্র্যাটিক ফার্মারের মেম্বার হিসেবে মিনোসোটা হাউজে প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। প্রাথমিক জীবন তিনি অতিবাহিত করেন সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে। সাত সন্তানের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। তার পিতা নূর মোহাম্মদ ওমর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতেন। ইলহানের বয়স যখন প্রায় দুই বছর, তখন তার মা মারা যায়। পিতা এবং দাদার কাছে তিনি বড় হন।

১৯ বছর বয়সে ২০০০ সালে ইলহান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। ইলহান ওমরের জন্ম ১৯৮১ সালের ৪ অক্টোবর সোমালিয়ার মোগাদিসুতে। একসময় তিনি এডিসন হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং ছাত্র সংগঠক ছিলেন। পরে নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে ২০১১ সালে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন। হামফেরে স্কুল অব পাবলিক এফেয়ার্সে একজন পলিসি ফেলো ছিলেন তিনি।

তিনি পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন তার সম্প্রদায়ের পুষ্টিশিক্ষা বিষয়ে। ২০০৬ থেকে ০৯ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর মেনিপোলিস সেইন্ট পল এলাকায় এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে কারি ডিজেজিক পুনর্নির্বাচনে অংশ নেন মিনোসোটা স্টেটস সিনেটের জন্য। ২০১২-১৩ পর্যন্ত মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনে শিশুপুষ্টির কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন।

এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ফেব্রুয়ারি ১৪ তে তিনি কিছু লোক দ্বারা আক্রান্ত হন। সেপ্টেম্বর ২০১৫তে ওম্যান অর্গানাইজেশন ওম্যান নেটওয়র্কে পরিচালক ছিলেন। সংস্থাটি পূর্ব আফ্রিকার নারীদের নগর বা নাগরিক বিষয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করে। ইলহানের পুরো নাম ইলহান আবদুল্লাহি ওমর।

Leave A Reply